সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। রোববার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধূরীর মর্মান্তিক মৃত্যুকমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের (পশ্চিম) উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নগর পরিকল্পনাবিদ নাহমাদুল হাসান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা খন্দকার মাহবুবুর রহমান।
এদিকে, জগলুল আহমেদের প্রথম জানাজা বনানী জামে মসজিদে আগামীকাল বাদ জোহর ও দ্বিতীয় জানাজা বাদ আসর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। পরে সোমবার আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিআরটিএ এবং লিও ক্লাব অ্যান্ড ক্যামব্রিয়ান ফ্রেন্ডস আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
একটি টিভি টকশোতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে শনিবার রাতে কারওয়ানবাজারে দুর্ঘটনায় পড়েন সাংবাদিক ও কলামিস্ট জগলুল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইমরুল কায়েস বলেন, জগলুল আহমেদ কারওয়ানবাজারে একটি চলন্ত বাস থেকে নামার সময় পড়ে যান। আঘাতে তার নাক ও কানের পাশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রথমে পান্থপথ মোড়ের মোহনা ক্লিনিক এবং সেখান থেকে কমফোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রায় চার দশক সাংবাদিকতা জীবনে সর্বশেষ ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন জগলুল আহমেদ। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
জগলুল আহমেদ থাকতেন ঢাকায় বনানীতে। তিনি দুই সন্তানের জনক। ছেলে নাবিদ আহমেদ চৌধুরী জানান, তার বাবার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আমার বোন অন্তরা আহমেদ চৌধুরী দেশে ফিরলে বাবার দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
জগলুল আহমেদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পিয়াম গ্রামে। তার বাবা নাসিরউদ্দিন চৌধুরী যুক্তফ্রন্ট সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন।
জগলুল আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। নিউইয়র্ক টাইমসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্থায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জগলুল আহমেদ। ১৯৮৮-৮৯ সালে অবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ছিলেন তিনি।