পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয় বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা।
সরকার এ চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়নের কথা বললেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির সভাপতি।
তিনি বলেন, পাহাড়ি জনগণের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয়ার জন্যই শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৭তম দিবস উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চুক্তি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আদিবাসীদের সঙ্গে সরকার প্রতারণা করেছে—এ কথা উল্লেখ করে প্রয়োজনে আবার আন্দোলন করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পাহাড়ি জনগণের হাতের অস্ত্র কেড়ে নিতেই পার্বত্য চুক্তি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন সন্তু লারমা।
তিনি বলেন, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কথা দিয়ে কথা রাখেনি। সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পর্কে এখন যেসব কথা বলছে, তা সঠিক নয়।
সন্তু লারমা অভিযোগ করেন, বাস্তবতা হলো পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই, সদিচ্ছা নেই। চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
গত ২৯ নভেম্বর জনসংহতি সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা আগামী বছরের ১ মে থেকে অসহযোগ আন্দোলন করার হুমকি দেন। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আজকের আলোচনায় পাহাড় যাতে আবার অশান্ত না হয়ে ওঠে সেজন্য সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
এসময়, পাহাড়ি-বাঙালি উভয়কেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের ১৭ বছর পার হলেও এর মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ পাহাড়ি নেতাদের।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ১৭তম বর্ষপূর্তি আজ।