সম্প্রতি দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়, কারিগরি ত্রুটির কারণেই ঘটেছে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাপনায়ও ত্রুটি পেয়েছে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।
বুধবার সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এ তথ্য জানান।
প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কম সময়ের মধ্যে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ওই বিপর্যয় ঘটে।
জাতীয় গ্রিড এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে— উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ সঙ্কট কাটাতে সময় লাগবে, তবে আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
গত ১ নভেম্বর দেশজুড়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকে পুরো দেশ।
এ ঘটনায় ওইদিন উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। এর এক মাস পরে বুধবার সচিবালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কমিটি। এ প্রতিবেদনে কারিগরি ত্রুটিকেই বিদ্যুৎ বিপর্যের জন্য দায়ি করা হয়েছে।
বিপু বলেন, অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেই অটোমেটিক ডাটা রের্কডার নেই। সময় রেকর্ড করা হয় ম্যানুয়ালি। ফলে সঞ্চালন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেও এ দুঘর্টনা ঘটতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিড এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়।
আসছে সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যাবে— সে চাহিদা পূরণসহ পুনরায় যাতে সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য কমিটি ৩২ দফা সুপারিশ করেছে মন্ত্রনালয়ের কাছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সকল পাওয়ার স্টেশন অটোমোশনের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যেই বড় ধরণের ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলেও জানান নসরুল হামিদ।