বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, গৌরবগাঁথা আর অপরাজেয় চেতনার অন্যতম মূর্ত প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধ। একে কেন্দ্র করে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিলেও স্মৃতিসৌধের মূল নকশাকারের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি ৩২ বছরেও। এর স্থপতি প্রয়াত মাইনুল হোসেনের ছিল এ নিয়ে গভীর আক্ষেপ। এতে করে মাইনুল হোসেনকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তার স্বজনরা।
তারা চান, মাইনুল হোসেনের নকশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হোক। সরকার আপাতত স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে জাদুঘর, গ্রন্থাগার ও স্মারক বিক্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে। মাইনুল হোসেনের নকশা পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের অন্যান্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে পরবর্তীতে।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছাপ্পান্নর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এই ৭টি পরিক্রমার ভাবব্যঞ্জনা প্রতিফলিত হয়েছে ত্রিভুজ আকৃতির ৭টি মিনারের সমন্বয়ে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে।
এর নকশাকার সম্প্রতি প্রয়াত স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। ১৯৭৮ সালে ৫৭টি নকশার মধ্যে নির্বাচিত হয় তার নকশা। ১৯৭৯ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে সমাপ্ত হয় ১৯৮২ সালে। সবচেয়ে ঊঁচু মিনারটির ঊচ্চতা দেড়শ ফুট।
প্রাথমিকভাবে লাল ইট দিয়ে স্মৃতিসৌধ ও তার প্রাঙ্গণ নির্মাণের কথা ছিল।
পরবর্তীতে নকশা কিছুটা পরিবর্তন করে প্রাঙ্গণ লাল ইট দিয়ে নির্মিত হলেও সৌধ নির্মিত হয় কংক্রিট দিয়ে যা বাংলাদেশের দৃঢ়চেতনার প্রতিফলন। তবে সৌধ এবং সৌধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
মাইনুল হোসেনের নকশার সঙ্গে স্মৃতিসৌধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয় সরকার। সেগুলো হলো গণকবর, ভাস্কর্য চত্বর, উন্মুক্ত মঞ্চ, ম্যুরাল, জাদুঘর, গ্রন্থাগার, স্মারক বিক্রয় কেন্দ্র, হেলিপ্যাড, কৃত্রিম হ্রদ, বাগান। গণকবর, উন্মুক্ত মঞ্চ, হেলিপ্যাড, কৃত্রিম হ্রদ, বাগান বাস্তবায়িত হয়েছে।
বাকি সবগুলো আপাতত বাস্তবায়ন করবে না সরকার বলে জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
মাইনুল হোসেনের সহধর্মী ও মেয়ে সৈয়দা তানজিনা হোসেনসহ সবার প্রত্যাশা স্মৃতিসৌধের নকশা এবং একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হোক অবিলম্বে।