বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা হয়েছে—এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি হালকাভাবে নেয়া হবে না বা তা নেয়াও হয়নি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সনাক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।
ওই তালিকায় যাদের নাম এসেছে মন্ত্রণালয় তা যাচাই বাছাই করছে, সনাক্ত করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হলেই এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ৪ ডিসেম্বর রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একদল সরকারি কর্মকর্তার বৈঠকের খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলেও একে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় বিএনপি।
ঘটনার পরের দিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খালেদার সঙ্গে বৈঠককারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মঙ্গলবার নাম না প্রকাশের শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি প্রমাণিত হলে চাকরিবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই ব্যবস্থা নেবে। আর প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকটি টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদপত্রে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ওই বৈঠক চলার খবর প্রচার ও প্রকাশিত হয়, যাতে প্রশাসনের একদল কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে জানানো হয়। এরপর রাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ওই খবর আদৌ সত্য নয়।
ওই সংবাদ প্রচার ও প্রকাশের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয় বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমানের সই করা ওই বিবৃতিতে।
বৈঠকে খালেদা জিয়া রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গুলশানের ওই কার্যালয়ে ছিলেন।
ওই কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ফখরুল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তাই বৈঠকে ছিলেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই সাবেক সচিব।