জাতীয়

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক কাজী গোলাম রসুল আর নেই

শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক কাজী গোলাম রসুলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ-আসর রাজধানীর সার্কিট হাউস জামে মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন হয়।

সকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক কাজী গোলাম রসুল রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

কাজী গোলাম রসুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালেই হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং গোলাম রসুলের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

বিচারক গোলাম রসুল ঢাকা জেলার সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় দেয়া ঢাকার সাবেক দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা নিয়ে গত ২৭ নভেম্বর থেকে এ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার ২৩ বছর বছর ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর এই হত্যা মামলায় ২০ আসামির ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার তৎকালীন দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল।

রায়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর দুটি রেজিমেন্টের অল্প সংখ্যক জুনিয়র সেনা অফিসার/সদস্য ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেন ওই কতিপয় সেনা সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ/নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেনি তা বোধগম্য নয়। এ ঘটনা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে সেনাবাহিনীর জন্য একটি চিরস্থায়ী কলঙ্ক হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আসামিপক্ষের আপিলে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাই কোর্ট এ মামলায় বিভক্ত রায় দেয়। বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য বিচারপতি এ বিএম খায়রুল হক ১৫ আসামির ফাঁসির আদেশই বহাল রাখেন।

২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে তিন জনকে খালাস দেন।

পাঁচ আসামি আপিল করলে ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ তা খারিজ করে এবং পরের বছর ২৮ জানুয়ারি প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

রায় কার্যকর হওয়ার পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গোলাম রসুল বলেছিলেন, এখন থেকে আর কেউ এমন জঘন্যতম অপরাধ করার সাহস পাবে না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে বিপথগামী সেনাদের হাতে নিহত হন বিচারের পথ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি আইন করা হয়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বিচারের পথ সুগম করে। ওই বছরই বঙ্গবন্ধুর আবাসিক একান্ত সহকারী (পিএ) এএফএম মোহিতুল ইসলাম ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা করেন। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৯ আসামির ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ