১৯৭১-এ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষ লগ্নে ১৪ ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও এদেশিয় রাজাকার আল-বদরদের বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে স্বাধীনতার পরপরই মিরপুর ও পরে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। যা এখনো একাত্তরের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে আছে। সারাদেশে একই নকশায় নতুন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বৃত্তচাপের আকারে ৩ ফুট পুরু ৩৮০ ফুট লম্বা রক্ত লাল দেয়ালটির এক প্রান্ত মাটি ভেদ করে ৫৮ ফুট উঠে এসেছে। বাঁকা দেয়ালটির অপর প্রান্তও একইভাবে নেমে গেছে মাটিতে। মাঝে বিশ ফুট দৈর্ঘ্যের জানালা। আর সামনের লেকের মাঝামাঝি শোকের প্রতীক কালো স্তম্ভের সামনে উড়ছে জাতীয় পতাকা। ইতিহাসের নৃশংসহতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ সাক্ষী রায়েরবাজারের এই বধ্যভূমি।
একাত্তরের ১০ ডিসম্বরের পর থেকেই পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানিরা মেতে ওঠে ঘৃণ্য চক্রান্তে। বাঙালি জাতি যেন কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্যই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যার কিলিং মিশনে নামে পাকিস্তানি হানাদাররা। সহযোগিতা
করে তাদের দোসর আলবদর, রাজাকাররা।
স্থপতি জামী আল-সাফী ও ফরিদ উদ্দীন আহমেদের নকশায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৯৯৯ সালে সাড়ে ৬ একর জমির ওপর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্বর হত্যাযজ্ঞের আরেক সাক্ষী মিরপুর বধ্যভূমি। জাতির মেধাবী সন্তানদের ধরে এনে নির্বিচারে হত্যা করা হয় এখানেও।
শহীদ বুদ্ধিজীবিদের স্মরণে স্বাধীনতার পরপর, ১৯৭২ সালেই মিরপুর এক নম্বরে মাজার রোডের এই বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ৪৩টি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর ছাড়াও পুরো ছয় একর জায়গা জুড়ে রয়েছে গণকবর ও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর।