এ বিজয় দিবসেও প্রকাশ করা হচ্ছে না মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা— তিন মাস পিছিয়ে আগামী স্বাধীনতা দিবসে এ তালিকা প্রকাশের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্রও দেয়া হবে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সোমবার দেশ টিভিকে এ কথা বলেন তিনি।
একইসঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধেরও একটি তালিকা তৈরি করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর সরকারের এ মেয়াদেই রাজাকারদের তালিকাও চূড়ান্ত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঠিক কতজন সরাসরি অংশ নিয়েছেন তার প্রকৃত তথ্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। যুদ্ধের সময় ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পত্রিকা লাল মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত তালিকা আর প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা তালিকা মিলিয়ে এক লাখেরও কিছু বেশি মুক্তিযোদ্ধার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া গেজেটে আরো ৫০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার হিসাব রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর গেজেট হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে আরও তদন্ত করবে মন্ত্রণালয়—এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৫ বছরের নিচে বয়স ছিল এমন কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়েও খোঁজখবর করা হবে।
এদিকে, এ অবস্থায় অনলাইন ও সরাসরি আরও ১ লাখ ২২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সনদের আবেদন জমা পড়েছে মন্ত্রণালয়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। একইসঙ্গে রাজাকার আল-বদরদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ হওয়া ত্রিশ লাখ বাঙালির তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য জেলাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হচ্ছে।