অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘বিজনেস এশিয়া’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দুদক তার সম্পদ যাছাই ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।
সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের ৭ বিলিয়ন ডলার রয়েছে বলেও অভিযোগও রয়েছে।
উল্লেখ্য, মুসার জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি করেন। তবে তার পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অস্ত্র ব্যবসার কথাই আগে এনেছে। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এ ব্যবসায়ী।
টনি ব্লেয়ার শেষ পর্যন্ত এ অর্থ না নিলেও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় চলে আসেন ফরিদপুরের মুসা বিন শমসের। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যিনি ‘প্রিন্স মুসা’ নামেই পরিচিত।
পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়েও যখন বিশ্বব্যাংক অনুদান না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তখন প্রিন্স মুসা ব্যক্তিগতভাবে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন। ৩ বিলিয়ন ডলার তার কাছে কিছুই না বলে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন।
এর আগে ২০১০ সালে তিনি আবার তোলপাড় তোলেন পশ্চিমা জগতে। এ তোলপাড় তার সাত বিলিয়ন ডলার সুইস ব্যাংকে আটকে যাওয়ার কারণে। অবশ্য এ অর্থ আটকে যাওয়ায় বিন্দুমাত্রও মাথাব্যাথা দেখাননি বাংলাদেশি এ ধনকুপ।