প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন আর নেই। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
পারিবারিক সূত্র মতে, বেশকিছু দিন ধরেই বার্ধক্যসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবীদ জাতীয় পার্টির সরকারে দীর্ঘ ৯ বছর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। রাজশাহী-৪ (বাগমরা-মোহনপুর) থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী ছাত্রলীগে যোগদান করে প্রথম রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন সরদার আমজাদ হোসেন। এরপর ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রথম পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের এমপি নির্বাচিত হন।
১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বাকশাল) থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে সরদার আমজাদ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আবারো এমপি নির্বাচিত হন। তিনি এমপি থাকাবস্থায় ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়ে মন্ত্রিত্ব লাভ করেন।
১৯৮৮ সালে প্রথমে তিনি খাদ্যমন্ত্রী, পরে মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী ও সর্বশেষ ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের শেষের দিকে তিনি জাতীয় পার্টি ছেড়ে আবারো আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরপর থেকেই তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লেখার পাশাপাশি সরদার আমজাদ হোসেন বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- যোগাযোগ গবেষণা : অর্ধশতাব্দীর মূল্যায়ন, বাংলাদেশে জয়-পরাজয়ের রাজনীতি ও একুশ শতকের সিঁড়িতে বাংলাদেশ।