পিলখানায় বিজিবি বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সীমান্ত রক্ষায় তাদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের –বিজিবির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পিলখানা সদরদপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজিবি জওয়ানদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিজিবির সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্ত রক্ষাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতায় বিজিবি জওয়ানরা সাহসী ভূমিকা পালন করছেন।
এ সময় ২০০৯ সালের ২৫-২৬ মার্চ পিলখানায় সংগঠিত বিডিআর বিদ্রোহকে এ বাহিনীর ইতিহাসে কালো অধ্যায় বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহের নামে বিডিআর সদস্যদের বর্বর হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন।
এ সময় তিনি বিজিবির উন্নয়নে সরকারের নানান কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিজিবিকে আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ বাহিনীকে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করা হবে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এটি একটি কালো অধ্যায় এবং বিদ্রোহের নামে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল।
বিজিবি জওয়ানদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সাফল্য দেখিয়েছেন। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কমে এসেছে। কাউকে ধরে নিয়ে গেলে বিএসএফ এর সঙ্গে আলোচনা করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
কর্মসূচি উদ্বোধন করে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর ওই বিদ্রোহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তুলেছিল।
বিদ্রোহের ঘটনায় বাহিনীর নিজস্ব আইনে বিচার হয়েছে। রায় হয়েছে প্রচলিত আদালতে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডেরও।
রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিডিআরের নাম পরিবর্তন হয়ে বিজিবি হয়, পরিবর্তন হয় পোশাকেও।
সকালে পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে।
উল্লেখ, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন নিহত হন। পিলখানা থেকে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের নানা প্রান্তের বিভিন্ন ইউনিটেও যার অবসান ঘটে ২৭ ফেব্রুয়ারি।