যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করে না— এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। শনিবার আমেরিকান ক্লাবে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মজীনা বলেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনা যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়— এ দেশ কোন দল কখন ক্ষমতায় আসবে এবং দেশ শাসন করবে তা নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ।
মজীনা বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র কখনও কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করেনি, করবেও না। বাংলাদেশে সরকার কোন দল গঠন করবে তা দেশের জনগণই নির্ধারণ করে, করবে।''কোন দল সরকার গঠন করবে বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে'
দীর্ঘ ৩৭ মাস রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের অর্জন সম্পর্কে মজীনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিকরণই তার বড় অর্জন। অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এই সম্পর্ক সবচেয়ে দৃঢ় ও গভীর। ভবিষ্যতে তা আরো বাড়তেই থাকবে।
মজীনা বলেন, 'চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে। এ সম্পর্কের লক্ষ্য ছিল এ দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও জনগণের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করা।'
৬৪টি জেলা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মজীনা বলেন, বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনাময় দেশ। এই দেশ গরীব কোনো রাষ্ট্র নয় তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্নীতি বন্ধ করলে ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অচিরেই এশিয়ার সুপার পাওয়ার হয়ে উঠবে বাংলাদেশ।
গরীব নয়, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে একে 'রয়েল বেঙ্গল টাইগারের' সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
ড্যান মজীনা বলেন, 'এই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চারটি পা। প্রথম পাটি গার্মেন্ট শিল্প। এ শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। দ্বিতীয় পা হল চামড়া শিল্প। চামড়া শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বের যেকোনো দেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।'
ওযুধ শিল্পকে 'তৃতীয় পা' উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, 'অল্প কিছু দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রপ্তানি হবে বাংলাদেশে তৈরি ওষুধ। 'আর চতুর্থ পা হলো তথ্যপ্রযুক্তি খাত। বিশেষ করে এ দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা সফটওয়ার তৈরি করে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে।'
রোববার বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী এই রাষ্ট্রদূত।