পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম আর নেই। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের কুইন্স মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্র মতে, বেশ কিছুদিন ধরে মাকসুদুল আলম যকৃতের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২ ডিসেম্বর তিনি হাওয়াইয়ের কুইন্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। সোমবার হাওয়াইয়ে স্থানীয় কবরস্থানে মাকসুদুল আলমকে দাফন করা হবে।
মাকসুদুল আলমের প্রয়াণে তার সহযোগীরা বলেন, বিজ্ঞান গবেষণায় বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। বিজ্ঞানী মাকসুদুল এ দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করেছিলেন।
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট ড. কামাল উদ্দিন মহা-পরিচালক বলেন, ‘সব সময় মনে হতো এটা মনে ল্যাবের ভিতরের কাজ কিন্তু এটা যে অর্থনীতিতে একটা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে। এর মধ্যে আইটি কোম্পানি, জুট রির্সাচ সেন্টার ও বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হতে পারে এ কাজগুলোই মাকসুদুল আলম করেছিলেন।’
উল্লেখ্য, পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে সোনালী আঁশের সুদিন ফেরানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম। ১৯৫৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন এ বিজ্ঞানী। সর্বশেষ তিনি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় ২০১০ সালে বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে তোষা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করেন বাংলাদেশি গবেষকরা। ওই বছরের ১৬ জুন জাতীয় সংসদে দেশবাসীকে সেই সুখবর জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে ২০১৩ সালে তারই নেতৃত্বে দেশি বা সাদা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করেন বাংলাদেশি গবেষকরা। ওই বছরের ১৮ আগস্ট মাকসুদুলকে পাশে নিয়ে এ সাফল্যের খবরও জাতির সামনে প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।