সরকারের উদাসীনতার কারণেই বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে বলে এ অভিযোগ করেছে বিএনপি।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ কথা বলনে।
হাফিজউদ্দিন বলেন, এটি একটি মানব সৃষ্ট বিপর্যয়। এর ফলে ওই এলাকায় জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়া ছাড়াও তেল সংগ্রহকারীদের চর্মরোগসহ ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে বলে তদন্তে ওঠে এসেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া, সুন্দরবনকে যথাযথভাবে রক্ষনাবেক্ষন ও রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সুন্দরবন রক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন, নৌপথ ও অভয়ারণ্য রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত নীতিমালা নেই। জাহাজ ডুবির পর বনবিভাগ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতমুখী বক্তব্যের ফলে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের চরম অদক্ষতা ও পারস্পরিক অহযোগিতা দৃশ্যমান হয়েছে।
অভিযোগ করা হয়, 'ট্যাঙ্কারডুবির ৪৮ ঘণ্টা পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্ধার কার্যক্রম ও জরুরি ভিত্তিতে তেল অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় বন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবনের উপর নেমে আসে মহাবিপর্যয়।'
বিএনপির তদন্ত কমিটির দাবি, দূর্ঘটনার পর নৌবাহিনী কিংবা কোস্ট গার্ডকে তেল অপসারণের কাজ দিলে ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনা যেত।
বনের ভেতরে ও নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেলের সামান্য পরিমাণই উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে বিএনপির তদন্ত প্রতিবেদনে।
সুন্দরবন রক্ষায় শ্যালা নদী ও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করাসহ ছয়টি সুপারিশও করেছে বিএনপির তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মেজর (অব.) হাফিজের নেতৃত্বে বিএনপির তদন্ত দলে আরো ছিলেন দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মনজু, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মনা, সেভ দ্য সুন্দরনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চৌধুরী।
গত ২২ ডিসেম্বর সাত সদস্যের এই তদন্ত দল সুন্দরবনে যান।
প্রসঙ্গত, গত ৯ ডিসেম্বর ভোরে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর মৃগামারী এলাকার ট্যাঙ্কারটি ডুবে যায়। ট্যাঙ্কারটিতে তিন লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস তেল ছিল। ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবন এলাকার নদী-খালসহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। জোয়ারের সঙ্গে এই ছড়িয়ে পড়েছে খুলনা নগরী সংলগ্ন রূপসা নদীতেও।
এ প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বনের ভেতর দিয়ে শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।