বর্তমান বাস্তবতায় দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তৃণমূল থেকে শুরু করার তাগিদ দিলেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে তৃণমূল থেকে এ আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও বলেও জানান তারা।
শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে শুরুতেই তাদের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে প্রস্তাবিত সনদ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল পর্যায়ে সুজনের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, দেশে গণভোটের ব্যবস্থা থাকলে হরতাল ডাকার প্রয়োজন হতো না।
গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন হয় না এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্রের জন্য আকুতি চলছে।
তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ভোটারদের রায় নেয়া দরকার। গণভোটের মাধ্যমে ভোটাররা যদি এ ব্যবস্থা চান তাহলে তা সবার মেনে নেয়া দরকার।
দশম সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় যোগ্য লোকের অভাব ছিল—এ কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিষয়ে আংশিক ব্যাখ্যা দেয়া হয়। ফলে এ বিষয়ে বিতর্ক অনেক সৃষ্টি হয়েছে। দেশে এখন গণতন্ত্রের নামে নির্বাচিত অটোক্রেসি চলছে। যখন যেদলই ক্ষমতায় থাকুন না কেন বিরোধী দল সরকারকে সাহায্য করেনি। তাই দেশে গণতন্ত্র ভালভাবে চলতে পারে না।
শামসুল হুদা আরো বলেন, আমরা কিন্তু পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছিলাম তাদের চেয়ে ভাল থাকা বা করার জন্য। কিন্তু আমরা তা পারিনি। আমাদের দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক বিতর্কিত।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান বক্তারা।
সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশের সাবেক আইজিপি শাহজাহান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, রোবায়েত ফেরদৌস, ড. ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।