মাথায় আঘাত ও পানিতে ডুবে শিশু জিহাদের মৃত্যু হয়েছে—ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, জিহাদের বাবাকে দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে পুলিশের হয়রানি হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার।
রোববার সকালে শিশু জিহাদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃতদেহ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে শনিবার বিকেলে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় শাহজাহানপুর রেলওয়ের কলোনিতে গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়া শিশু জিহাদকে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণার কয়েক মিনিটের মাথায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও রেলওয়ের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শনিবার রাতে শাহজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা।
এদিকে, রোববার জিহাদের বাবাকে দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে পুলিশের হয়রানি হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার।
জিহাদের বাবা নাসির ফকিরকে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার।
সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তরিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তবে যদি কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তাহলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও একমত পোষণ করে বলেন, যদি কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে নাসিরকে আটকে রাখা হয় বা নির্যাতন করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে। এ রকম কিছু হলে যিনি দায়ী, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।