বীরঙ্গনা মায়েদের বীরত্বের কাহিনী পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরতে আদালতের পর্যবেক্ষণেও সন্তুষ্ট জানিয়েছেন রায় শুনতে আসা বিশিস্টজনেরা।
মঙ্গলবার রায় প্রকাশের পর তা দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বীরঙ্গনাদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ রায়ে সন্তুষ্ট হলেও কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে গণজাগরণমঞ্চ।
দেশের আপামর জনসাধারণ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালে আসা অনেকেই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, দেরি হলেও ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির আদেশ দেয়ায় খুশি তারা। অবিলম্বে তা কার্যকরে দাবি জানান তারা।
একাত্তরের অনেক ক্ষতের চিহ্ন এখনো মুছে যায়নি। অনেক দেরিতে হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে সন্তুষ্ট জাতি। মঙ্গলবার সকালে ট্রাইবুনাল-১ বদর কমান্ডার এ টি এম আজহারুল ইসলামের সর্বোচ্চ সাজার রায়েকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এ সময় যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামাতের বিচাররের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।
তিনি বলেন, ‘বীরাঙ্গনা মায়েদের মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এটিই শেষ কথা নয়, বীরঙ্গনা মায়ের এই দুঃখের কাহিনী, বেদনার কাহিনী, ত্যাগের কাহিনী, আমাদের পাঠ্য বিইয়ে সন্নিবেশিত হতে হবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আমাদের মায়েদের এই ত্যাগের কাহিনী জানবে। একই সঙ্গে সেই বর্বরদেরও তারা চিনবে। যারা মা-বোনদের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে।’
অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, আজকে রায়ে যে পর্যবেক্ষণগুলো সেগুলো দ্রুত কার্যকর করা উচিৎ। ছয় বছর ধরে মক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার রয়েছে, তবে পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের উপস্থিতি তেমনভাবে দেখছি না। দ্রুত ব্যবস্থার নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, এ রায়কে স্বাগত জানালেও, যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাসি না হওয়ায়, রায়এর বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশা গণজাগরণ মঞ্চ।
রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। রায়কে স্বাগত জানিয়ে একটি বিজয় মিছিলও করে গণজাগরণমঞ্চ।