দেশে ২০১৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। বুধবার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক পর্যালোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
সুলতানা কামাল বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও গুপ্তহত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধসহ দেশের মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সরকারের প্রতি সুপারিশ করেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা মর্যাদাহানিকর আচর বা শাস্তির বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক সনদে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করলেও তা মানা হয়নি। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিতায় ২০১৪ সালও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক বিনাবিচারে আটক, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।’
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনসহ ও র্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, হরহামেশা এ সব ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।
সুলতানা কামাল বলেন, ‘একটি বিষয়েই জোড় দিয়েছি বারবার ২০০৪ সাল থেকে সেটা হল, র্যা বকে যে নীতিমালায় গঠন করা হয়েছিল সেই নীতিমালার মধ্যে আবদ্ধ রাখা। এলিট ফোর্সের নির্দৃষ্ট কিছু কার্যবিধি থাকে, সেটা বাইর যেনো তারা কোনো অবস্থাতেই যেনো না যায়। যেটা তারা (র্যাব) করেছে।’
এ সময় মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সহিংস রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।
দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে নাজুক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপশি বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, গুপ্ত হত্যাসহ নারীদের উত্ত্যক্ত করা, নারী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, হয়রানি এবং সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার মতো নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার অভাব ছিল।
এছাড়াও রয়েছে, সাংবাদিক নির্যাতন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংতায় সংখ্যালঘু নির্যাতন, আদিবাসী উচ্ছেদে হামলা-ভাঙচুরের মতো ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির পর্যালোচনায় ২০১৪ সাল জুড়েই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকা ছাড়াও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়।