মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে বদর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসি দণ্ডাদেশের প্রতিবাদে দেশব্যাপী দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে জামাত-শিবিরকর্মীরা। সকালে রাজধানীর গাবতলীতে বাসে আগুন ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় হরতাল সমর্থকরা। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশে জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। দুরপাল্লার বাস চলাচল না করলেও রেল ও লঞ্চ চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানও রয়েছে খোলা। সকাল থেকেই রাজধানীতে রিকশা-অটোরিকশার পাশাপাশি চলতে দেখা যায় গণপরিবহনও। তবে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস।
নগরীর সড়কগুলোতে অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে। রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, মৌচাক, খিলগাঁও, পল্টন, মতিঝিল এলাকায় অন্যান্য দিনের মতোই সকাল থেকেই যান চলাচল করছে।
হরতালে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল দিচ্ছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জলকামান, রায়ট কারসহ পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
এদিকে, বুধবার জামাতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল সফল করে তোলার জন্য জামাতের সকল শাখা, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ ও পেশাজীবীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা দেশের আপামর জনতার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে, হরতালের সমর্থনে সকালে খুলনার দোলখোলা থেকে মিছিল বের করে জামাত-শিবির। পাবনায় মহাসড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে হরতাল সমর্থকরা। জামাতের ডাকে ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, দিনাজপুরসহ দেশের অন্যান্য জায়গায়ও।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার জামাতের সহকারী সেক্রেটারি এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে জামাতের পক্ষ থেকে বুধ ও বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয়া হয়।