আন্দোলনের নামে সহিংসতা বন্ধ না হলে আরো কঠোর হবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মসূচির নামে বিএনপি-জামাতের সহিংসতাকে জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে এ জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি তার রাজনৈতিক পদক্ষেপে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে পিছিয়ে যায়, সেই দায়িত্ব তো জনগণের নয়। ফলে জনগণকে কেন খুন করতে হবে, মারতে হবে ও আগুন দিয়ে পুড়াতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না হলে এগুলো বন্ধ করতে আমাদের আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়া আমাদের কর্তব্য।’
এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নানা সাফল্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পিছিয়ে থাকা প্রাথমিক শিক্ষাকে বর্তমান সরকার এগিয়ে নিয়েছে।
অবরোধের নামে দেশব্যাপী সহিংসতা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সমালোচনা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
'লক্ষ্য ছিল যে ২০০৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নিরক্ষর মুক্ত হবে কিন্তু ২০০৯ সালে দেখা গেল আমরা পিছিয়ে রয়েছি। যে লক্ষ্যমাত্রা যেটা ২০১৫ সালের মধ্যে অর্জন করার কথা সেটা ২০১১ সালেই বাংলাদেশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।’
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এরইমধ্যে বিদ্যালয় জাতীয়করণ, শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হার কমাতে শিক্ষাবৃত্তিসহ শ্রেণীকক্ষ উন্নয়নে নানা সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বছর শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য শ্রেষ্ঠ জেলা প্রসাশক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই কর্মকর্তা, শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানসূচক পদক দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৪ এ বিজয়ী ১০৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।