রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যারা মানুষ হত্যা করছে তাদেরকে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। একই সঙ্গে সহিংস রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জামাত নিষিদ্ধের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে দাবি তুলেছেন তারা।
সোমবার রাজধানীতে সংগঠনটির ২৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনায় এসব দাবি তোলা হয়।
নির্মূল কমিটি মনে করে, কখনো রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটলে আটক যুদ্ধাপরাধীরা মুক্তি পেতে পারে, তাই রাষ্ট্রপতির কাছে যেন ক্ষমা চাওয়ার পদ্ধতি না থাকে সেই ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবেই করার দাবি তাদের।
একাত্তরের গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামাত-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত হয় "একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি"।
সংগঠনটির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডি ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে আলোচনার আয়োজন করা হয়।
দেশব্যাপী বিএনপি-জামাতের ডাকা হরতাল অবরোধ কর্মসূচির নামে সহিংস কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন বক্তারা।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, সহিংসতাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি ব্যবস্থা করা উচিৎ।
পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে জামাতকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে বিগত সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন আলোচকরা।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জামাতের সহিংস এ পরিস্থিতির জন্য সরকারগুলোই দায়ী। এই সময়ে বিএনপি ও জামাতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক ও অভিন্ন উল্লেখ করে দুটি সংগঠনকেই রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা হোক।
রাষ্ট্রপতি যেন যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দেন তারা। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত আপিল নিষ্পত্তিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ তাদের।