বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সরকার উৎখাতের প্রত্যাশা থাকতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করলেও আপাতত তেমন কোনো আশঙ্কা দেখছে না যুক্তরাজ্য।
এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদল বিএনপির মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। অর্থনীতির অগ্রগতি বজায় থাকায় বাংলাদেশের প্রশংসাও করেছে তারা।
বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, 'রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকার পরও দেশটির সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে।'
বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার এবং সংলাপে বসার আহ্বানও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
এতে আরো বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির গণতন্ত্র নিয়ে লুকোচুরি খেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক বিশ্লেষক এক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অনেকের ধারণা- খালেদা জিয়া আশা করছেন, তার বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল সেনাবাহিনীকে দেশটিতে আবারো হস্তক্ষেপে এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে বাধ্য করবে।'
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ‘পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ: জানুয়ারি ২০১৫ আপডেট’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সব পক্ষকেই সংযত হয়ে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র নিয়ে খামখেয়ালির’ অভিযোগ রয়েছে। তবে গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার নিয়েও অনেক বিশ্লেষকের প্রশ্ন রয়েছে।
‘কেউ কেউ মনে করছেন- তিনি (খালেদা) প্রত্যাশা করতে পারেন যে, তার বর্তমান কৌশল সেনাবাহিনীকে আরো একবার হস্তক্ষেপ ও আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের দিকে ঠেলে দিবে। যদিও এখন পর্যন্ত সেরকম ঘটার কোনো লক্ষণ নেই।’
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা এবং এরইমাঝে রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী কয়েক দফায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় ‘সার্কিট ব্রেকার' হিসেবে কাজ করে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সেনাবাহিনী সব সময় একটি রাজনৈতিক ভূমিকা রেখে এসেছে; সাধারণভাবে যা আওয়ামী লীগের প্রতি বৈরী।
‘দুই বছর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিন চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হলে অনেকে আশা করেছিলেন বাংলাদেশ অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে বেরোতে পারবে। তবে দুই বেগম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিবাদের কারণে সেই সুযোগ ভেস্তে গেছে।’
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই প্রতিবেদনে ‘রাজনৈতিক সংঘাতের’ মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও সামাজিক উন্নয়নেও ভালো অগ্রগতি হয়েছে।
মানতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে হস্তান্তরে বাংলাদেশ থেকে কোনো অনুরোধ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। কয়েক বছর ধরে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরত চাওয়ার কোনো অনুরোধও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছায়নি বলে এতে বলা হয়েছে।
পার্লামেন্টে দেওয়া এই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বা এ দণ্ড পেতে পারেন এমন কাউকে যুক্তরাজ্য হস্তান্তর করে না জানিয়ে এতে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না-শুধু এ নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই তাকে হস্তান্তর করা যেতে পারে।