বিএনপি-জামাতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ আর হরতালে প্রায় প্রতিদিনই, দেশের কোথাও না কোথাও পেট্রোল বোমায় পুড়ে মরছে সাধারণ মানুষ। ঝলসে যাচ্ছে যাপিত জীবনের স্বাভাবিকতা, স্থবির হয়ে পড়ছে অর্থনীতির চাকা।
এ অব্যাহত সহিংস ও নাশকতায়তায় বিক্ষুব্ধ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই উপদেষ্টাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজনীতির নামে এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতো বিক্ষুব্ধ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারাও।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সন্ত্রাস কখনো দাবি আদায়ের হাতিয়ার নয়, থাকতে হবে ভিন্ন কোনো কর্মসুচি। আবার আন্দোলনের নামে সহিংসতা, আর ওই সহিংসতা দমনের কথা বলে গণগ্রেপ্তার—দুই-ই রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বকে প্রকাশ করছে।
এ ধরনের সহিংসতা আন্দোলনের হাতিয়ার নয় তাই মানুষ বাঁচাতে এ অবরোধ কর্মসুচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীর ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক ভাবেই করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখেই সকলের অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনের পদ্ধতি সংলাপের মাধ্যমে বের করতে হবে।
উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারি থেকে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা অবরোধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে থেমে থেমে হরতালের কর্মসূচি। এ সব কর্মসুচি বাস্তবায়নের নামে দেশজুড়ে চলছে যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর পেট্রোলবোমা হামলা।
প্রায় প্রতিদিনই লাশের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে অগ্নিদগ্ধ সাধারণ মানুষের নাম আর হাসপাতালগুলোর বার্ন ইউনিটে ভেসে বেড়াচ্ছে পোড়া মানুষের যন্ত্রণাকাতর গোঙানি ও স্বজনহারাদের আহাজারি।