জাতীয়

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কোকো

আরাফাত রহমান কোকো
আরাফাত রহমান কোকো

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে মঙ্গলবার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

তার দ্বিতীয় জানাজা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলে সর্বস্তরের জনসাধারণ ও দলের নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে হয়। কোকোর জানাজায় বিপুল মানুষ অংশ নেন।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কোকোর মরদেহ বায়তুল মোকাররমে নেয়া হয়। সেখানে বাদ আসর তাঁর জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা মো. সালাউদ্দিন।

জানাজায় অংশ নিতে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম, মহানগর নাট্যমঞ্চ, গোলাপশাহ মাজার থেকে জিপিও মোড় পর্যন্ত সড়কে মানুষ অবস্থান নেন। এছাড়া বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এলাকায়ও হাজারো মানুষ সমবেত হন। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর থেকে অসংখ্য মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায় সবাই বায়তুল মোকাররমে কোকোর জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নেন। বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশের নির্দেশে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এর আগে কোকার মরদেহ রাখা হয় তার মার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গুলশানে।

দুপুরে সেখানে মরদেহ পৌঁছানোর পর অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ ভিড় করেন। মঙ্গলবার দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় কোকোর মরদেহ।

অনুমতি মেলেনি বনানী সামরিক কবরস্থানের বলে জানান বিএনপির শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

ওইসময় তিনি বলেন, কোথায় দাফন করা হবে তা পরে জানানো হবে।

স্থানীয় সকাল ৮টায় মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্সের একটি বিমান করে তার মরদেহ নিয়ে কুয়ালালামপুর ছাড়ে। সেটি মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে কোকোর কফিন ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। একই ফ্লাইটে কোকোর মরদেহের সঙ্গে আসেন তার স্ত্রী সায়েদ শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দা ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু।

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার মরদেহ নেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে। সেখানে মা খালেদা জিয়া শেষবারের মতো ছেলের মরদেহ দেখেন। এরপর দলীয় নেতাকর্মীদের শোক জানাতে ৩ ঘণ্টার জন্য কফিন সেখানে রাখা হয়।

কোকোর মরদেহ গ্রহণ করেন দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নিয়ে তৈরি করা একটি কমিটি।

এদিকে, কোকোর মৃত্যুতে বিএনপি ৩ দিনের শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সারাদেশে তার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গায়েবানা জানাজায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

বরিশালে সকাল ১০টায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান এতে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। পরে বিকেল ৪টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদে কোকোর মরদেহ নেয়া হয়। সেখানে বাদ আসর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গত শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ায় মারা যান।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ