জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করতেও জনসাধারণের প্রতি আহবান জানান তিনি।
মঙ্গলবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৫’ এর উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় বিএনপি-জামাতের সহিংসতাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেবার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও সাহসিক
তার জন্য রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পরিয়ে দেন শেখ হাসিনা।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিটি জাতীয় সংকটে পুলিশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি জামাত দেশজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, উন্নয়নের গতি রোধ করছে।
পুলিশকে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক— উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় পুলিশই জনগণের প্রধান ভরসা। বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, হরতাল ও অবরোধের নামে নিরীহ মানুষ হত্যাসহ ঘৃণ্য অপকর্ম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। তিনি এজন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।’
পুলিশের অনেক সমস্যা রয়েছে— এমন মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, পুলিশ বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করবে সরকার।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে পুলিশ পদের সংখ্যা আমরা বৃদ্ধি করবো। এ বাহিনীর সংখ্যাও ভবিষ্যতে বৃদ্ধি করা হবে। এ পর্যন্ত পুলিশ ঝুঁকিভাতা ৩০% প্রবর্তন করা হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, এরইমধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।
দেশের মানুষকে এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সন্ত্রাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে এবং আমাদের পুলিশ বাহিনীকে এ কাজে সর্বত্তম সহযোগিতা করতে হবে।’