প্রতিদিনই বোমায় দগ্ধদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের পরিবেশ। এখন পর্যন্ত পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৮ জন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থা ৫ জনের। সকালে মারা গেছেন একজন।
পেট্রোলবোমার আগুনে দগ্ধ হয়ে নিভে গেল আরো দুটি প্রাণ। মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলে ট্রাকচালক বকুল দেবনাথ ও রংপুর মেডিকেলে মারা গেছেন ট্রাক হেলপার আব্দুর রশীদ।
এ নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন ছয় জন। বর্তমানে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন বোমায় দগ্ধ ৪৮ জন। আর কত মানুষের প্রাণ গেলে বন্ধ হবে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে মানুষ হত্যা- এটিই শোকসন্তপ্ত পরিবারের আর্ত-জিজ্ঞাসা।
এভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ক্ষোভ জানান ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধে পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ট্রাক চালক বকুল দেবনাথের ভাই। কে নেবে এই পরিবারের দায়?
বকুলের ভাই দেশ টিভিকে বলেন, দেশের জনগণ যদি বেশি হয়ে থাকে তাহলে এভাবে পুড়িয়ে না মেরে ক্রসফায়ারে মারলে ভালো হয়।
বউ, ছেলে মেয়ে সবই আছে, এখন সরকার কি করবে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
কেন এই নির্মমতার শিকার সাধারণ মানুষ। আর কত প্রাণ গেলে এ সহিংসতা বন্ধ হবে-প্রশ্ন তাদের?
এ সংসারের দায়ভার কে বহন করবে? সাংবাদিকদের বলেন, আজ আমরা এখানে আছি তাই আপনারা খবরের জন্য আমাদের খোঁজ নিচ্ছেন এখান থেকে চলে গেলে কেউ আমাদের খোঁজ খবর নিবে না। আর কত মানুষের রক্ত গ্রাস করলে সরকার ও বিরোধীদল শান্তি পাবে।’
গত মঙ্গলবার রাতে সিলেটের গোয়ালবাজার থেকে বালু ভর্তি ট্রাক নিয়ে শহরে যাওয়ার পথে অবরোধকারীরা একটি ট্রাকে আগুন দিলে গুরুতর দগ্ধ হন চালক বকুল দেবনাথ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দুই দিনপর ঢাকা মেডিকেলে আনা হয় তাকে। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
আর গত ২৪ জানুয়ারি রংপুরে ট্রাকের হেলপার অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হন আবদুর রশীদ। ২ দিন চিকিৎসার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের চিকিৎসার হালনাগাদ জানাতে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পোট্রোলবোমায় পোড়াকে সাধারণ আগুনে পোড়ার মতো মন্তব্য করে গণমাধ্যমকে আতঙ্ক না ছড়াতে আনুরোধ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।