প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ কিছূ সময়ের জন্য গুলশান কার্যালয়ে রাখা হয়। এ সময় মা খালেদা জিয়া অশ্রুসিক্ত নয়নে কিছু সময় ছেলের মরদেহের পাশে বসে থাকেন ও দোয়া পড়েন।
এর আগে ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুরে শেষ দেখা হয়েছিলো মা-ছেলের।
মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায় কোকোর কফিন। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তার কফিন নেয়া হয় গুলশান কার্যালয়ে। পরে সেখান থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নেয়া হয়। বাদ আসর জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে কোকোকে।
অ্যাম্বুলেন্সটি গুলশান কার্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকানো হয় বেলা পৌনে ২টার দিকে। এরপর নেতাকর্মীরা ধরাধরি করে খয়েরি রঙের কফিনটি নিচ তলার একটি কক্ষে নিয়ে রাখেন। কফিন খোলার পর একটি গিলাফ দিয়ে কোকোর মরদেহ ঢেকে দেয়া হয়।
কোকোর মরদেহের সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী সায়েদ শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালুও ঢাকায় আসেন।
কিছুক্ষণ পর খালেদা জিয়ার দুই ভাই সাঈদ এস্কান্দার ও শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী দুই পাশ থেকে ধরে অশ্রুসিক্ত খালেদা জিয়াকে নিচে নামিয়ে আনেন।
খালেদার দুই ছোট ভাইয়ের পরিবারের সদস্য, বড় ছেলে তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবালমান্দ বানু, জোবাইদার বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দু এবং কোকোর শ্বশুড়বাড়ির লোকজনও সেখানে ছিলেন।
ওই কক্ষে আরবি হরফে লেখা একটি ব্যানার টানানো ছিল। পাশের কক্ষে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সেলিম রেজা, প্রচারনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা দ্বীন মোহাম্মদ কাশেমীর নেতৃত্বে সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়।
কোকোকে শেষবার দেখতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের প্রবেশের পথ ও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন। তবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও আত্মীয় স্বজন ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের জানাজায় অংশ নিতে বায়তুল মোকাররমে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, জালিম সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বায়তুল মোকাররমে কোকোর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নেতাকর্মীদের সেদিকে যাওয়ার অনুরোধ করছি।