হরতাল-অবরোধ ডেকে যারা বাসে আগুন জ্বালিয়ে শ্রমিকদের পুড়িয়ে হত্যা করছে তারা কোনো দলের হতে পারে না এরা সন্ত্রাসী-বলে মন্তব্য করেছেন বাস-মালিক শ্রমিক নেতারা।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আয়োজন করে মতবিনিময় সভার।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিলে এবং ভাঙচুর বা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হলে দেশের সব রুটের বাস চলবে বলেও জানান তারা।
এ সময় বাংলাদেশের সব জেলা-উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কমিটি গঠন করে নাশকতা মোকাবেলা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
কোনো ধরনের ক্ষতি হলে বাস ও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এ কথা উল্লেখ করে দেশের সব রুটে বাস চালানোর জন্য মালিকদের আহ্বান জানান তিনি।
আর মালিক শ্রমিকদের রক্তের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান শ্রমিক নেতা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান।
মতবিনিময় সভায় সাধারণ মানুষ ও বাস-মালিক শ্রমিকদের একসঙ্গে নাশকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান।
এ সময় বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা জানান, নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ পেলে সারাদেশের সড়কগুলোতে দূরপাল্লার বাস চালাতে তারা প্রস্তুত।
পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, দূরপাল্লার বাস চলাচলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মামলা করেন না কেন আপনারা? এটার বিরুদ্ধে সকলকে দাঁড়াতে হবে। যদি এখন না দাঁড়ান ভবিষ্যতে আবার যে আসবে সরকার, আগামীতে যদি বিএনপি আসে তাহলে আওয়ামী লীগ একই কাজ করবে।’
আর যারা অবরোধ ডেকে গাড়িতে আগুন দেয় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেন তিনি।
এরপর বাস মালিকদের মধ্যে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র তুলে দেয়া হয়।