পারস্পরিক দোষারোপ বাদ দিয়ে সংলাপের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধীদলকে আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। আর এ ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলেও মনে করেন তারা।
শনিবার চলমান সহিংসতা নিয়ে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ শীষর্ক এক গোলটেবিল আলোচনা এসব কথা বলেন তারা।
এছাড়া দুই জোটের মধ্যে বর্তমানে যে লড়াই চলছে তা অবাস্তব বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এতে বিশিষ্টজনরা আন্দোলন মানে সহিংসতা নয় উল্লেখ করে দুই জোটকে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংসদীয় ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান।
সুজনের নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রের স্থায়ী সমাধানে জাতীয় সনদপত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তিনটি ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে একমত হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার গঠন প্রয়োজন। তাতে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ করতে হবে। এ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন আইন-কানুন যুগোপযোগী করবে।
নিরপেক্ষ সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের অসঙ্গতি দূর করে দেশের সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে—এ তিন ক্ষেত্রে জাতীয় সনদপত্র করতে রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিলে সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, সিভিল সোসাইটির মাধ্যমে সংলাপের উদ্যোগ নিলে তাও ফলফসূ হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ –সংলাপের কোনো পরিবেশ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। সেক্ষেত্রে সংলাপের বিকল্প নেই।
সহিংসতা দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে উল্লেখ করে পারস্পরিক দোষারোপ ও নাশকতা বন্ধ করে রাজনৈতিক স্থায়ী সমাধানের কথা বলেন অর্থনীতিবিদরা।
ড. শাহদীন মালিকের সঞ্চালনায় এ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ড. আকবর আলী এবং ড. কামাল হোসেন ও এটি এম সামলুল হুদা।