বিএনপি-জামাতকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কার সঙ্গে আলোচনা? হত্যাকারীদের সঙ্গে? আগুনে পুড়ে মানুষ মারে তাদের সঙ্গে— খুনির সঙ্গে কি কথা? যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব নেই, খুনিদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়।
বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ২০ দলের ডাকা অবরোধ-হরতালে পেট্রোলবোমায় দগ্ধদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ-হরতালে পেট্রোলবোমায় দগ্ধদের দেখতে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে যান প্রধানমন্ত্রী। এসময় আহত প্রত্যেকের হাতে ১০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলে দেন তিনি।
রাজনীতির নামে মানুষ খুন করছেন খালেদা জিয়া— এ কথা উল্লেখ করে পরে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সংলাপের কথা তুলছেন, তাদেরকে প্রথমে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে বিএনপি নেত্রীকে বলতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামাত জোট যেভাবে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করছে তা কোনো রাজনীতি হতে পারে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএনপি নেত্রীকে মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স কেউ দেয়নি— দুই বছরের শিশুর ওপরও বোমা হামলা হয়েছে। দগ্ধ হয়ে এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। আর তিনি গুলশানে আরাম আয়েছে থেকে মানুষ পোড়ানোর হুকুম দিয়ে যাচ্ছেন। এটা সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জঙ্গিবাদের শাস্তি যেভাবে হয়েছে আগে সেভাবেই তার শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ রাজনীতিকে দোষারোপ করছেন কিন্তু এটা তো রাজনীতি না। এটা একেবারেই জঙ্গিবাদ। খালেদা জিয়াকে বলবো এ মুহূর্তে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স তাকে কেউ দেয়নি। জামাত শিবিরকে নিয়ে তিনি আমার দেশের মানুষকে এভাবে হত্যা করবে এটা আমরা কখনোই সহ্য করতে পারবো না।’
সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যারা মানুষ হত্যার রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়।
‘ আন্তর্জাতিকপর্যায়ে যেমন জঙ্গিদের বিচার হয় তেমনভাবেই এ দেশের জঙ্গিদের বিচার হবে। দয়া করে সংবাদমাধ্যম একটা করেন এই জামাত-শিবির জঙ্গিদের খবর প্রকাশ করবেন না।’
গত ৬ জানুয়ারি থেকে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত বার্ন ইউনিটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন ১২৫ জন। এর মধ্যে এখন ভর্তি আছেন ৫৩ জন, চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন ৬৩ জন। আর মারা গেছেন ৯ জন।