নাশকতা বন্ধ করুন না হলে এদেশের মানুষ সমুচিত জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।
হরতাল-অবরোধের নামে প্রতিটি নাশকতার তদন্ত হচ্ছে— তদন্তে প্রমাণ পেলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও মামলা হবে। বিএনপি-জামাত নিষিদ্ধের দাবি উঠেছিল। তারা দেশে যেভাবে সহিংসতা চালাচ্ছে এতে এমনিতেই নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
সহিংসতার ঘটনায় অর্থ সরবরাহে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠনে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টকশোতে গিয়ে যারা মানুষ হত্যার জন্য উষ্কানি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাশকতা দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আইনের অভাব নেয়, প্রচলিত আইনে নাশকতাকারীদের বিচার হচ্ছে— তবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নয়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করে এদের বিচার করা হবে।'
আর নাশকতাকারী, হুকুমদাতা ও অর্থ যোগানদাতাদের পাশাপাশি উস্কানিদাতাদেরও খুঁজে বের করা হবে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, নাশকতা দমনের জন্য যতটা কঠোর হওয়া দরকার, ততটা কঠোর হবে সরকার।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের টানা অবরোধ হরতালে নাশকতাকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে যারা নিহত হয়েছেন তাদের আর্থিক টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের দায় বিএনপি নেত্রীকে নিতে হবে। তারা নির্বাচনে আসে নেই –সেই ভুলের মাশুল দেশের নিরীহ জনগণকে দিতে হচ্ছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, দেশে চলমান নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং নেয়া হবে।
সকালে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটপর্রিদশন করে তার বিস্তারিত তথ্য সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ দগ্ধদের সাহায্য করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান দেশের এ সহিংসতায় অন্য জেলাগুলোতে বার্ন ইউনিট খোলা হবে কিনা— এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সদর হাসপাতালগুলোতে বার্ন ইউনিট চালু করা হচ্ছে— এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আরো মেশিন কেনা হবে।