যারা অকারণে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে— তারা কী মানুষ? না দানব। এটা কী রাজনীতি? বিএনপি-জামাত জোট যা করছে তা জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার গাজিপুরের শফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৫তম জাতীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এ দানবদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না, দানবের কাছে মানুষ হারতে পারে না। এ দানবদের প্রতিহত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশে জঙ্গিদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।
‘তারা ধর্মের কথা বলে, কিন্তু তারা বিশ্ব ইজতেমা, মহানবীর জন্ম-ওফাত দিনেও তারা হরতাল-অবরোধ দিয়েছে। ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। কোটি কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তারা দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়।’
বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি সংগঠনের স্থান নেই— উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই বিএনপি-জামাত দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে আর তারা পেট্রোলবোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে তারা।
আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে সকলকে এগিয়ে আসাতে হবে।
এ সময় আনসার বাহিনীর উন্নয়নের জন্য সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দেশে ও মানুষের সেবায় আনসার সদস্যদের আরো মনযোগী হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ অবদানের জন্য আনসার সদস্যদের হাতে পদক ও চেক তুলে দেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্রসচিব মো. মোজাম্মেল হক খান, তিন বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নাজিম উদ্দীন, গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ প্রমুখ।