বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে শেখ হাসিনার সরকার আত্মবিশ্বাসী এবং জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি এখনো সরকারের বিবেচনায় আসেনি বলে ভারত সরকারকে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন ঢাকায় দেশটির হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ।
বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত ভারতীয় কূটনীতিকদের ষষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লিতে অবস্থানের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।
বিএনপি-জামাত জোটের অবরোধে গাড়িতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও বোমাবাজিতে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টির হয়েছে বলে জানান পঙ্কজ।
এক মাসেরও বেশি সময়ের অবরোধে নাশকতায় এরইমধ্যে ৭০ জনের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। যেসব জেলায় বেশি সহিংস ঘটনা ঘটেছে সেগুলো চিহ্নিত করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার। সেগুলোর মধ্যে ফেনী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, রংপুর, মাগুরা ও ঢাকা রয়েছে।
দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে হাসিনার সরকার— উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতা দমনে বাংলাদেশ সরকার কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এবং তা কাজে দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং এরইমধ্যে তারা বেশ সফলতাও পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
আগামী মার্চেই ঢাকায় হাই কমিশনারের দায়িত্বের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে শরণের। এরপর তার জায়গায় কে আসছেন সে বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি।
নতুন পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বেশ কয়েকটি দেশের নতুন রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেলদের নিয়োগ চূড়ান্ত করছেন, বাংলাদেশও সেগুলোর মধ্যে রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ি, পঙ্কজ শরণ ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোয় তার এ মেয়াদকে সফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার ফল হিসেবে আরো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে চলেছেন তিনি।
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ভারত হাসিনা সরকারকে দিয়েছে তা পূরণের লক্ষ্যে শরণ এখন তার দেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন বলে বলা হচ্ছে। এই দুই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য তিনি মোদী সরকারকে রাজি করাতে পেরেছেন বলে ধারণা করা হয়। আর ওই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মমতা দুটি চুক্তিরই বিরোধিতা করলেও স্থল সীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে এখন মন বদলেছেন।