দেশে ভোটের রাজনীতি করতে চাইলে জনগণের স্বার্থ দেখতে হবে—পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা বন্ধের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলের নেত্রী রওশন এরশাদ। সোমবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি খালেদা জিয়াকে উদেশ্যে আরো বলেন, আপনি তো দুই বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন—দেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন—ভোটের রাজনীতি করতে চাইলে অবশ্যই দেশের জনগণের স্বার্থ আপনাকে দেখতে হবে।
সরকার ও বিরোধীদল মিলে দেশের এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমরা (জাতীয় পাটি) একটা নজির স্থাপন করেছি যে সরকারের সঙ্গে একহয়ে কাজ করার। বিগতে কেউ সরকারের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করেনি।
দেশে চলমান নৈরাজ্য বন্ধ করতে প্রয়োজনে পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে নৈরাজ্য প্রতিহত করতে হবে— যে কোনো দাবি আদায়ের মূল হাতিয়ার হরতাল, অবরোধ। কিন্তু বর্তমানে হরতাল অবরোধের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। একের পর এক মানুষ পুড়িয়ে মারছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আগুন দিচ্ছে। এটা কোনো আন্দোলন নয়, এটা সন্ত্রাস।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলের নেতা বলেন, চলমান সহিংসতা প্রতিরোধে আপনি যে পদক্ষেপ নেবেন আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এসময় প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
হরতাল, অবরোধে ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৫/১৬ দিনে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সহিংসতায় ২০০-৩০০ লোকের ক্ষতি হয়েছে। বেশকিছু মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এর দায়-দায়িত্ব কার? এদের কে দেখবে? লাখ লাখ শ্রমিক অনাহারে দিনাতিপাত করছে। গার্মেন্টস সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
রওশন আরও বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে কেন এক হতে পারি না?। প্রতিহিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি দিয়ে কোন কিছু আদায় করা যায় না, অর্জন করা যায় না।