রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া ও টেকনিক্যাল মোড় থেকে সোমবার রাতে ৪টি গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকিরা অজ্ঞাত বলে জানিয়েছেন মিরপুরের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন।
ওসি জানিয়েছেন, মিরপুর থানা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ওয়াদুদ ব্যাপারী টেকনিক্যাল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং অপর ৩ জন জনরোষের শিকার হয়ে মারা গেছেন। পুলিশের দাবি নাশকতার চেষ্টাকালে গণপিটুনীতে তাদের মৃত্যু হয়।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হাতবাধা অবস্থায় সাদা গাড়িতে এনে ওই ৩ জনকে গুলি করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় পুলিশ। আলাদা দুটি ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চলমান অবরোধ-হরতালে নাশকতা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে মিরপুর থানা শ্রমিক দলের সভাপতি পাভেজ ও রুবেল যৌথভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিদের্শে চলন্ত বাসে ককটেল ও পেট্রোলবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় নিহত ওয়াদুদ ব্যাপারীর মাধ্যমে।
রোববার সকাল পৌনে ৯ টায় মিরপুর মডেল থানার সামনে রাস্তার ওপর চলমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল বাসে ককটেল নিক্ষেপ করে পালানোর সময় জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ওয়াদুদের স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ি গভীর রাতে তার সহযোগিদের ধরতে টেকনিকেল মোড় গেলে তার সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি করে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ওয়াদুদ নিহত হয়। এর গত ২৫ ও ২৯ জানুয়ারি একই স্থানে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল ওয়াদুদ জানিয়েছে বলে জানান ওসি।
এদিকে, পশ্চিম কাজীপাড়া এলাকার বাইশবাড়িতে নাশকতার পরিকল্পনার সময় স্থানীয়দের হামলায় ৩ নাশকতাকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। রাতেই ওই ৩ জনকে মিরপুর থানা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।