নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে মান্নার বড় ভাইয়ের স্ত্রী বেগম সুলতানা বনানী থানায় জিডি করেন।
বানানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি ভূইয়া মাহবুব হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জিডিতে বড় ভাইয়ের স্ত্রী-ভাবী দাবি করেছেন, সোমবার রাত ৩টা-সাড়ে ৩টার দিকে ৬-৭ জন লোক গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বনানীর বাসা থেকেই মান্নাকে নিয়ে যায়।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে মান্নাকে আটকের খবর নাকচ করা হয়েছে।
সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্নার দুটি ফোনালাপ ফাঁসের পর দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই মান্নাকে ধরে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বেগম সুলতানার করা জিডিতে আরো বলা হয়েছে, রাতে নিজের কলাবাগানের বাসা থেকে মান্না বনানীর ওই বাড়িতে যান।
সেখান থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদা পোশাকের ৫/৬জন বাসার গেটে এসে নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় দেয় এবং এখানেই মান্না আছে বলে জানায়। এসময় বাসার লোকজন সকাল না হওয়া পর্যন্ত দরজা খুলতে অস্বীকার করে। পরে তারা দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দিলে দরজা খুলে দেয়া হয়। এরপরই ওই ব্যক্তিরা বাসায় ঢুকে মান্নাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে বেগম সুলতানা জানান।
জিডিতে বলা হয়, এর আধা ঘণ্টা পর টিভির স্ক্রলে মান্নাকে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে বলে দেখানো হলে তারা আশ্বস্ত হন। কিন্তু সকাল ৯টার দিকে টিভি স্ক্রলেই ডিবি গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেছে লেখা দেখে তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ কারণেই তারা এখন পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার নূর আলম বলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।
গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটক বা গ্রেপ্তার কোনোটাই করা হয়নি। তবে অন্য কোনো সংস্থা তাকে আটক করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির সঙ্গে মান্নার টেলিফোনে কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর থেকে তা নিয়ে বাংলাদেশজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে।