বাংলাদেশে অবরোধ- হরতালে গাড়িতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে নাশকতকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
মানবাধিকার সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেছেন, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। যারা একবার এগুলো করছে তারা অপরাধী (ক্রিমিনাল) এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
মঙ্গলবার লন্ডনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের ফাঁকে সঙ্গে কথা বলেন আব্বাস ফয়েজ।
গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলমান বিএনপি-জামাত জোটের অবরোধে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
গাড়িতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি এইসব হামলা বা হামলার প্ররোচনার পিছনে কিছু রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
নাশকতার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই বিএনপি কর্মী উল্লেখ করে ‘আগুন হামলা’ থেকে কর্মীদের বিরত রাখতে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেয়ার কথা তুলে ধরেন আব্বাস ফয়েজ।
তিনি বলেন, তাদের উচিত গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ থেকে কর্মীদের বিরত রাখা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অ্যামনেস্টির এই কর্মকর্তা বলেন, গত বছর সেপ্টেম্বর-অগাস্টের দিকে বাংলাদেশে ‘গুম’সহ অন্যান্য নির্যাতন কমে এসেছিল। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র্যা ব সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ ছিল ইতিবাচক।
তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আবারো ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে তিনি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চায়। তবে তারা মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী।
শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান ও সার্বিয়ায়ও মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে তারা বিবৃতি দেন জানিয়ে আব্বাস ফয়েজ বলেন, তাই বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে অ্যামনেস্টির যে সমালোচনা হয় তা ঠিক নয়।
বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার ও কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার, ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকদের মতো পশ্চিমা ক্রেতাদেরও দায়িত্ব্ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পশ্চিমা ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানা থেকে পোশাক নিয়ে অনেক অর্থ আয় করলেও তারা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ততোটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেন আব্বাস ফয়েজ।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।