সেনা অভ্যুত্থানে প্ররোচনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা— উল্লেখ করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার হুমকি পরোয়া করি না।
শুক্রবার গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
এ সময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা এবং অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির কথোপকথন বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানান ড. কামাল।
সামরিক অভ্যুত্থান প্ররোচণার চেষ্টায় সহযোগিতা করেছেন এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার দাবি করে ড. কামাল বলেন, এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক ঘটনা।
রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাকে ভয় পান না— মন্তব্য করে তিনি চলমান সঙ্কট নিরসনে জাতীয় সংলাপের আহ্বানও জানান।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পাতায় মাহমুদুর রহমান মান্নার সহযোগী হিসেবে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি সেনাবাহিনীর পিঠে চড়ে ক্ষমতায় আরোহন করতে চান।
এ সময় একে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে উল্লেখ করে ড. কামালকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
আর এ অভিযোগকে ড. কামাল মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে অবিহিত করেছেন।
এর আগে তিনি তার বক্তব্যে বর্তমানে রাজনীতিতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে মন্তব্য করে বলেন, বন্দুকের জোরে ক্ষমতা আকড়ে থাকা এবং সহিংসতা চালিয়ে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কথোপকথন ফাঁস হয়। অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে মান্না বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে, সেনা বিদ্রোহের উসকানি দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।