গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ও বিচারকাজ একটি স্পর্শকাতর বিষয় বলে জানিয়েছেন কম্বোডিয়ার বিচারক আগ্নিয়েশকা ক্লনউয়েশকা।
শনিবার রাজধানী সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশের গণহত্যা ও বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সেক্ষেত্রে দেশিয় আইন না-কি আন্তর্জাতিক আইন কোনটি অগ্রাধিকার পাবে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে কি-না বলেও জানান আগ্নিয়েশকা ক্লনউয়েশকা।
কম্বোডিয়ার বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ বা আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে আমিও বলতে পারি, বিচার প্রক্রিয়ার সচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তি ও প্রমাণ রয়েছে। তবে সবচেয়ে অবাক লাগে যখন দেখি বিচারকরা তাদের সংশ্লিষ্ট বিচারকাজ সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত নন, উপরন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত।’
সেমিনারে আর্জেন্টিনার বিচারক ডানিয়েল হোরাসিও সেদেশের অবস্থা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে মামলা থেকে শুরু করে গোটা বিচার প্রক্রিয়ার স্পষ্টতা নিয়ে। আজ পর্যন্ত কোন সময়ই দেখলাম না ক্ষমতার পালাবদল, বিচার প্রক্রিয়া রাজনীতিকরণ, মানবিক সহানুভুতি, ইত্যাদি ধুয়ো তুলে বিচার প্রক্রিয়াকে এলোমেলো করা হয়নি। আমার দেশ আর্জেন্টিনাও এর ব্যতিক্রম নয়।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ এর সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবীর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার সচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দিনদিন তা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। আর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্বিগ্ন মহলকে বলতে চাই, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কোনভাবেই মৃত্যুদণ্ডকে না বলেনি বরং প্রেক্ষাপট বিশেষে অনুমোদন করেছে। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার যথার্থ বিচার না হওয়া পর্যন্ত এদেশে ন্যায়বিচার অসম্পূর্ণ থাকবে।’
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিচার নিয়ে মতামত দেন ফজলে কবীর।
এদিকে, গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারের দ্বিতীয় দিন ছিল আজ। এদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন ছিল বিভিন্ন দেশের বিচারকদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সহভাগিতা।