বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় রোববার লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পরে তার মরদেহ গবেষণার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে ফুল দিয়ে প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা।
পরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অভিজিৎ রায়ের মরদেহ বড় মগবাজারের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে অভিজিৎ রায়ের মা শেফালী রায় শয্যাশায়ী। ছেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এদিকে, ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়ের বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন।
এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে লেখকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পিইএন। অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় পূর্ণ তদন্ত দাবি করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আহ্বান জানায় তারা।
ফ্রান্সভিত্তিক সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন-আরএসএফ, হামলাকারীরা যাতে পার না পেয়ে যায় এবং ব্লাগারদের নিরাপত্তায় নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে। অভিজিতের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট-সিপিজে।
সংগঠনটি এ হত্যার জন্য বাংলাদেশে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছে।
প্রসঙ্গত, ‘একুশে বইমেলা’ থেকে ফেরার সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়কে। হামলায় গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী, ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যা।