তিস্তার পানি বণ্টনসহ দ্বিপক্ষীয় সব বিষয়ের নিষ্পত্তিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখ পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, মমতার লেখা ওই চিঠির ভাষা ‘ইতিবাচক’। বৈঠকে বসতে মোদীর কাছে সময়ও চেয়েছেন মমতা।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্করের সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সফরের আগে ওই চিঠি মোদীর কাছে পৌঁছায় বলে জানা গেছে।
বুধবার কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে উঠে এসেছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ—পানির ভাগ নিয়ে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। এ চুক্তি নিয়ে যে জট পাকিয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে কাটিয়ে ফেলা সম্ভব।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, এলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনে করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরে এই দুটি চুক্তি সম্পাদন হতে পারে।
এর আগে অবশ্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘সুখবর নিয়ে আসছি।’ জানা গেছে, মোদি চাইছেন তিস্তা ও ছিটমহল চুক্তি মমতার উপস্থিতিতেই সম্পাদন করতে।
১৯৯৬ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পানিবণ্টন চুক্তি হয়, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার সঙ্গে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু।
যদিও ২০১১ সালে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেকে বসেন মমতা, তিনি তখন মনমোহনের সফরসঙ্গীও হননি। বরং প্রকাশ্যেই তিনি এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন।
কলকাতার আরকটি বাংলা দৈনিক আজকাল-এর অনলাইনে বলা হয়েছে, তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ১০ বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি করতে পারে ভারত সরকার। প্রয়োজনে পরবর্তী সময় এই মেয়াদ বাড়াতেও পারে। তবে কোন দেশ কতটা পানি পাবে, পরে তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে।
এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরের সময় ছিটমহল বিনিময় চুক্তির পাশাপাশি তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিও সম্পাদন হতে পারে।
গতমাসের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে ‘নীতি আয়োগের’ পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বাদে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এর বাইরেও মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে এমন অনেক অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেছেন মমতা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এসব ঘটনার পর মমতা এখন মোদীর সঙ্গে বৈঠক করতে চাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর আচরণে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
কেন এমনটা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি তারা।
তবে সারদার অর্থ কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, বর্ধমান বিস্ফোরণের পর ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়কে সারদার ঘটনায় গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ মোদীর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মমতার আগ্রহী হয়ে ওঠার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মমতাকে সঙ্গে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদী।
আগামী মার্চে ভারত মহাসাগরীয় চার দেশ সফরের পর এপ্রিলে মোদী বাংলাদেশ সফরে আসতে চান বলে তার দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সে পর্যন্ত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে এ সংক্রান্ত বিল পার্লামেন্টের ঊচ্চকক্ষে একটি স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির কিছু জটিলতার অবসান হবে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, মোদী ঢাকা সফরে মমতাকে সঙ্গে নিতে এবং বাংলাদেশ নিয়ে সব ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ঘোষণার সময় তাকে পাশে রাখতে চান।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে পাশে রেখেছিলেন তেমনি মোদীও তাই করবেন।
তিস্তায় যাতে উজান থেকে বেশি পানি আসে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ তাদের হিস্যা পায় সেজন্য মোদী সিকিমের সঙ্গে কাজ করছেন বলে অনেকের ধারণা। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।