আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
রোববার প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি জ্বালিয়ে দিবসটির সূচনা করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নারীর ক্ষমতায়ন, মানবতার উন্নয়ন’।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তার বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের আপামর নারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, এবারের প্রতিপাদ্য যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে যা সমাজে নারীর অবস্থান ও মানবাধিকার সুদৃঢ় করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। নিউইয়র্ক শহরে সুতা কারখানার হাজার হাজার নারী শ্রমিক শত বেড়াজাল উপেক্ষা করে ন্যায্য মজুরি, পুরুষের চেয়ে কম বেতনে কাজ না করা এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পথে নেমেছিলেন।
এর অর্ধশত বছর পরে ১৯১০ সালে নারীনেত্রী ক্লারা জেটকিন, ডেনমার্কের কোপেন হেগেনে ঘোষণা দেন নারী দিবস উদযাপনের। এরপর থেকে নারীর অধিকারের দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। বাংলাদেশেও প্রতিবছরের মতো এবারো নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
তবে, কেমন আছেন এদেশের নারীরা? সমাজে পুরুষদের পাশাপাশি নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে কোন বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন কি তারা?
গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপের রিপোর্ট-২০১৪ বলছে, লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে বিশ্বে ১৪২টি দেশের মধ্যে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৮ তম। ২০১৩ সালে এদেশের অবস্থান ছিল ৭৫ তম এবং ২০১২ সালে ছিল ৮৬ তম। আর্থ-সামাজিক অবস্থানের কারণে যেদেশের মানব উন্নয়ন সূচক সময়ের চেয়ে এতো অগ্রগামী অথচ সেই দেশেই প্রতিবছর ১৫% হারে নারী নির্যাতন বেড়েই চলছে।
শুধু তাই নয়, নারী শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা অবস্থানে থাকার পরও বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে অভিশাপ হয়েই আছে। এখনো এর হার ৬৬%। এ পরিস্থিতিতে, বহু সমালোচনার পর বিয়ের বয়স ১৮ রাখলেও মা-বাবা চাইলে ১৬-তে বিয়ে দিতে পারবে বলে একটি আইনের খসড়া তৈরি করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তবে দেশে সার্বিকভাবে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রক্ষণশীল মানসিকতা এবং সংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।