শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকারের সেবা এমনকি বিচারিক সেবা পেতে গ্রামীণ নারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হোন। তাদেরকে দুর্নীতির সহজ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এসব দুর্নীতিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখে থাকেন নারীরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সুশাসন নিশ্চিত আর নারী ক্ষমতায়ন না হওয়ার কারণে সমাজে দুর্নীতি বেড়েই চলেছে বলে জানানো হয় টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে।
গবেষণায় বলা হয়, দেশের জামালপুর ও গাজিপুর জেলার দুটি কৃষিভিত্তিক ইউনিয়নে নারীর অভিজ্ঞতায় দুর্নীতি বিষয়ে গবেষণা চালায় টিআইবি। এ দু'টি এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় সরকার থেকে বিভিন্ন সেবা এমনকি আদালতে বিচারিক সেবা পেতেও নারীদের অর্থ কিংবা সম্পদ লেনদেন করতে হয়। এছাড়া নানা ধরনের প্রতারণা ও হয়রানির ক্ষেত্রেও তাদের অবৈধভাবে অর্থ ব্যয় করতে হয়।
শুধু তাই নয় প্রচলিত ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ওই ইউনিয়নের নারীরা এসব দুর্নীতির বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক ও নিয়ম হিসেবেই মনে করেন। এ দুর্নীতির ফলে নারী সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সমাজে গ্রামীণ ও খেঁটে খাওয়া নারীদের এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল।
তিনি বলেন, স্বল্প পরিসরের গবেষণায় আরো বিশদ করে তা নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে দেয়া হবে।
এ ধরণের দুর্নীতি বন্ধে নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নারী শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়ার সুপারিশ করেছে টিআইবি।