বিএনপির সঙ্গে কোনো প্রকার সংলাপ হবে না বলে আবার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যার হাতে মানুষ পোড়া গন্ধ, যে মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না, এমন জঙ্গি নেত্রীর সঙ্গে কোনো সংলাপ হতে পারে না।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়া ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি নেত্রীকে আদালতে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে তাকে আইন অনুসারে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
খালেদা জিয়া বিদেশিদের কাছে ধর্না দিয়ে কোনো ফল না পাওয়ায় মানুষ পুড়িয়ে মারছেন— উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কার্যালয়ে বসে খালেদা জিয়া মানুষ পোড়ানোকে সমর্থন দিচ্ছেন ও সন্ত্রাসীদের সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
বিএনপি নেত্রী হরতাল-অবরোধের ডাক দিয়েছেন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তার হরতাল তো তার নিজ দলের নেতারাও মানেন না। বিএনপি নেতাদের সব ব্যবসা চলছে। তারা গাড়িতে ঘুরে বেড়ান। আর বিএনপি নেত্রী নিজেকে অফিসে অবরুদ্ধ রেখে একের পর এক কর্মসূচি দিচ্ছেন।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার সংলাপের দাবি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নির্বাচনে আসেননি, এটা তার সিদ্ধান্ত। এখন তিনি সংলাপ চান। আমি নিজে টেলিফোন করেছিলাম। তিনি তখন কি বলেছিলেন আপনারা জানেন। ওই রকম ঝগড়া আমি জীবনেও শুনিনি। এখন তিনি আলোচনা চান।
বিএনপি নেত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অবৈধ বললেও সারাবিশ্ব তাতে স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থে বর্তমান সংকট নিরসনে যা যা করা দরকার এ সরকার করবে।
তিনি আরো বলেন, আমি চেষ্টা করেছি তাদের নির্বাচনে আনার। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ও দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছি। উনি সেটা রাখলেন না। উনি নির্বাচন বর্জন করলেন। নির্বাচন বর্জন করার পর সেই নির্বাচন ঠেকানোর জন্য তিনি হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। উনার দৃষ্টিতে নির্বাচন বৈধ নয়। কিন্তু সারাবিশ্ব এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
খালেদা জিয়া আত্মসমপর্ণ না করলে সরকার আদালতের আদেশ পালন করবে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদের সম্পর্কে বলেন, তিনি কোথায় তা খালেদা জিয়া জানেন আর তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ফলে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজছে।