প্রতিহিংসার শিকার নয়—লেখাপড়া শিখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিটি শিশু গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে পড়ালেখার পাশাপাশি তাদেরকে খেলাধূলা ও সংস্কৃতি চর্চায় মনোনিবেশ করতেও বলেন তিনি।
জাতীয় চেতনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অর্থের অভাবে কোনো শিশুর লেখাপড়া যাতে বন্ধ না হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন সরকার প্রধান।
দরিদ্র্য দূর করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষকে অন্তত তার ন্যূনতম প্রয়োজন, একটা থাকার ঘর, দুবেলা পেট ভরে খাবার ব্যবস্থা, পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, আমরা এগুলো একে একে করে দিচ্ছি।
সমাধি প্রাঙ্গণের পাশে আয়োজিত শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশ্যে মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালবাসার কথা তুলে ধরেন।
পঁচাত্তরে পিতাকে হারিয়ে ইতিহাস হারিয়ে ফেলেছিল বাঙালি জাতি আর বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য শিশুদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
পরে শিশু-কিশোরদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকালে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে সঙ্গে নিয়ে সমাধিতে ফুল দিয়ে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সমাধি প্রাঙ্গনে উপস্থিত সকলে। পরে তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল শ্রদ্ধা ও সালাম জানায়।
পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।