সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় মৃতুবার্ষিকীআজ (শুক্রবার)। ২০১৩ সালের ২০ মর্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।
প্রয়াত জিল্লুর রহমানের রাজনীতি জীবনের কিছু কথা:
১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ভৈরবপুর গ্রামের হাজী বলাকী মোল্লা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন জিল্লুর রহমান। পিতা প্রখ্যাত আইনজীবী মেহের আলী মিঞা ছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের সদস্য ও লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান। জিল্লুর রহমান ১৯৪৫ সালে ভৈরব কেবি হাই স্কুল থেকে মেট্রিক ও ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও ইতিহাস বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করেন।
জিল্লুর রহমানের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রাবস্থাতেই। সেই উজ্জ্বল ভূমিকা মূর্ত হয়ে উঠেছিল ভাষা আন্দোলনের সময়টাতেই। বাঙালির আত্মপরিচয়ের উন্মেষ ও মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা ছিলো তার। জিল্লুর রহমান তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-এর ২০ ফেব্রুয়ারি ফজলুল হক ও ঢাকা হলের পুকুর পাড়ে যে ১১জন নেতার বৈঠকে ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত হয় জিল্লুর রহমান ছিলেন তাদের অন্যতম। এভাবে ভাষা আন্দোলনে যে নেতৃত্বের বিকাশ তার প্রতিফলন ঘটে পরের বছরই। ১৯৫৩ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি। প্রবল আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে দেয় তার কেড়ে নেয়া মাস্টার্স ডিগ্রি আর প্রত্যাহার করা বহিষ্কারাদেশ।
তবে তার আগে যখন তিনি কলেজছাত্র ওইসময় ১৯৪৬ সালে প্রথম সান্নিধ্যে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। সেসময় সিলেটে গণভোটের সময় প্রচারণার কাজ করেন তিনি।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী জিল্লুর রহমান ছিলেন ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। ওই বছরই নির্বাচিত হন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আইন পেশায় যোগ দিয়ে ষাটের দশকে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৬২ সালে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি আন্দোলনে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর। প্রথম জনপ্রতিনিধি হন ১৯৭০ সালে। নির্বাচিত হন তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য-এমএনএ । স্বাধীনতা সংগ্রামী হওয়ায় পাকিস্তান সরকার তার সদস্যপদ বাতিল করে ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়ে সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল।
আওয়ামী লীগে তিনি ছিলেন নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে। কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে আসেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বে। স্বাধীনতাত্তোর আওয়ামী লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান। এ পদে বেশ কয়েকবার তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীরও সদস্য।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনসহ ৭৩, ৮৬, ৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান। মন্ত্রিসভায় ছিলেন বিভিন্ন সময়। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে, শক্ত হাতে হাল ধরেন আওয়ামী লীগের।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদে সংসদ উপনেতা নির্বাচিত হন। আর ২০০৯ সালে নির্বাচিত হন বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি।
তার স্ত্রী আইভি রহমান ছিলেন রাজনীতিতে। ২০০৪ সালে বর্বর গ্রেনেড হত্যাযজ্ঞে তিনি নিহত হলে একা হয়ে পড়েন তিনি। তাদের দু’কন্যা ও একপুত্র, যার মধ্যে ছেলে নাজমুল হাসান পাপনও আছেন রাজনীতিতে। তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি।