ছাব্বিশে মার্চ—মহান স্বাধীনতা দিবস আজ (বৃহস্পতিবার)। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছর পূর্তি। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশের মানুষ।
পরাধীনতার শৃঙ্খল ও পাকিস্তানি শোষণ-শাসনকে হটিয়ে দিতে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে, সশস্ত্র হয়ে অজস্র শক্তিতে রুখে দাঁড়ায় বাঙালি। উৎসব-আনন্দের নানা আয়োজনে গৌরবের এ দিনটিতে জাতি শ্রদ্ধা জানায় মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এ ১৯টি দিন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার সব ষড়যন্ত্র আর আলোচনার নামে নীলনকশা ধুলিস্মাৎ হতে যাচ্ছে টের পেয়ে, নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী।
রাতের আঁধারে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ দিশেহারা করে দেয় নিরস্ত্র বাঙালিকে। ঢাকা শহর রক্তে প্লাবিত হয়। নির্বিচার নারকীয়তার শিকার হয় নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালি। সে নারকীতা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। অপারেশন সার্চ লাইট নামে যা কুখ্যাত হয়ে আছে ইতিহাসে।
পাকিস্তানিরা ভেবেছিল, হত্যা করেই চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে এ জাতিকে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।, এরকম কিছু ঘটতে পারে বঙ্গবন্ধু আঁচ করতে পেরেছিলেন আগেই, প্রস্তুতিও ছিলো তার। তাই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই আসে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
ক্ষোভে দ্র্রোহে ফুঁসে উঠেছিলো গোটা দেশ। কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা নূন্যতম প্রস্তুতি ছাড়াই হানাদারদের রাইফেল, কামান বা বোমারু বিমানের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন বাংলার মানুষ। নিজেদের অপ্রতিরোধ্য করে তুললেন মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে এ এক জীবনবাজি জনযুদ্ধ।
মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্বার প্রতিরোধে ধাক্কা খেলো পাকিস্তান। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষটা আসে ১৬ ডিসেম্বর। জয়ের পতাকা উড়লো বাংলার আকাশে, পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে একটি স্বাধীন দেশের। প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন রাষ্ট্র- বাংলাদেশ।