একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে জামাতের ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে।
সোমবার জামাতের প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে কামারুজ্জামানের রায়কে ‘হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্র’ অবিহিত করে বলা হয়, এর প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে ৭ ও ৮ এপ্রিল মঙ্গল ও বুধবার দেশব্যাপী দুই দিনের সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি পালিত হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়াকে ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে সর্বাত্মক হরতাল সফল করতে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, সাংবাদিক, ব্যাংক-বিমার কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-ছাত্র, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিকর্মী, আইনজীবীসহ সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে জামাতের ডাকা হরতাল শুরু হলেও এখন পর্যন্ত রাজধানীতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতালে নাশকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ভোর থেকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংসদ ভবন, সচিবালয়, আদালতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়।
এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সারাদেশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে নেমেছে।