মানবতাবিরোধী অপরাধী জামাতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার।
হাই-কমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি গতকাল বুধবার জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আহ্বান জানান।
এর আগে গত সোমবার একই ধরনের আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ খারিজ আদেশের কপি গতকাল কারাগারে পৌঁছেছে। কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানকে রায় পড়ে শুনিয়েছে। প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না, এ ব্যাপারে -বৃহস্পতিবার কারাগারে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র বলেন, গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ায় কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এখন সময়ের ব্যাপার বলে বলা হচ্ছে। তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা জরুরি ভিত্তিতে আহ্বান জানাচ্ছি।
হাইকমিশনারের মুখপাত্র বলেন, এই বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ না করা এবং ত্রুটির অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে বিদ্যমান মৃত্যুদণ্ডের বিধানেরও বিরোধিতা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। মৃত্যুদণ্ডের ওপর মুলতবি আরোপ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
একাত্তরে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে ১৪৪ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতুইক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিপক্ষ।
গত বছরের ৩ নভেম্বর সোহাগপুর হত্যাকাণ্ডের দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে ৫ মার্চ তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। দুই দফা শুনানি পেছানোর পর গত রোববার আপিল বিভাগে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়।