মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে চাননি –জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
শনিবার রাজধানীতে নিজ বাস ভবনে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাংবাদিকদের আরো বলেন, ফাঁসি কার্যকরের পর তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিবার চাইলে তার মরদেহ দাফনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাহায্য করবে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, তিনি (কামারুজ্জামান) মার্সি পিটিশন করতে চাননি। গতকাল শুক্রবারও তিনি একই কথা বলেন।
একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা ও নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে ময়মনসিংহের আল বদর কমান্ডার কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সেখানেও তার সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য কামারুজ্জামানের আবেদন গত সোমবার খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
এরপর বুধবার দুপুরে রায়ে বিচারপতিদের সইয়ের পর তা কারাগারে পাঠানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষ ওই রায় পড়ে শোনায় ফাঁসির আসামি কামারুজ্জামানকে। শুরু হয় দণ্ড কার্যকরের আগে আসামির প্রাণভিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা।
নিয়মানুযায়ী একজন ফাঁসির আসামি অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে কারা কর্তৃপক্ষ তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠায়। রাষ্ট্রপতি সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেন। আসামি আবেদন না করলে বা তার আবেদন খারিজ হয়ে গেলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর করে।
এর আগে যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতা কাদের মোল্লা প্রাণভিক্ষার সুযোগ না নেয়ায় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রিভিউ খারিজের দিনই ফাঁসি কার্যকর করা হয়।